
বরিশালে ছাত্র আন্দোলনের হামলার মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী সহ গ্রেফতার ২
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা-নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২০ জুন (২০২৬ খ্রি.) দিবাগত গভীর রাতে নগরীর পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বরিশাল মহানগরীর ০৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু সিকদার (৫১) এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১১নং ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগ সদস্য হোসনেয়ারা সুমি (৪৬)। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন রাত আনুমানিক ৩:২০ ঘটিকায় কোতয়ালী থানা ও বন্দর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানকালে বন্দর থানাধীন টুমচর এলাকার নিজ বাসা থেকে বাচ্চু সিকদারকে এবং কোতয়ালী থানাধীন চাঁদমারী মাদ্রাসা গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে নারী পুলিশের সহায়তায় হোসনেয়ারা সুমিকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে প্রেরিত পুলিশ প্রতিবেদন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গ্রেফতারকৃতরা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতা এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে জড়িত ছিলেন। গত ২৬ জুলাই ২০২৪ খ্রি. বিকেল ৪:০০ ঘটিকায় কোতয়ালী মডেল থানাধীন হাতেম আলী কলেজের পশ্চিম পাশে নবগ্রাম রোডে খ্রীষ্টান মিশনারী দাতব্য সংস্থার সামনের সড়কে ছাত্র-জনতার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, লোহার রড, পাইপগান, পিস্তল ও ককটেলসহ মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হন। ঘটনার দিন মামলার বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে শর্টগান ও পাইপগান দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করা হলে বেশ কিছু রাবারের গুলি ও ছররা গুলি বাদীর শরীরে বিদ্ধ হয়। এ সময় কতিপয় আসামী বাদীকে চেপে ধরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়াও আসামীরা পেট্রোল ঢেলে স্থানীয় দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। কোতয়ালী থানার এফআইআর নং-৩৭ (তারিখ: ১৪-০৫-২০২৫; জিআর নং-২৯৯/২০২৫) মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩৪১/৩২৬/ ৩০৭/৪৩৬/৫০৬(২)/১০৯ পিসি তৎসহ ৩এ/৬ ধারা এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩এ/৬ ধারায় তাদের আসামী করা হয়েছে। কোতয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-২, বরিশাল) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো: আশিক সাঈদ।