1. admin@dainikbarishalpotro.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভান্ডারিয়ায় সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বরিশালে বাজেট বাস্তবায়নে নগরবাসিদের মতামত গ্রহণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি ত্যাগের রাজনীতিতে আস্থার নাম নুরুল আমিন সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী উত্তরায় গাড়ি চাপায় দুই সাংবাদিকের মৃত্যু নথুল্লাবাদ উড স্ট্যান্ডে মাইক্রোবাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: ‘এক ভাড়া’ বলে ডেকে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ, মূলহোতা শিপন! শত কোটি টাকার দুর্নীতির! বরপুত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অন্যতম মহা নায়ক বতর্মানে (সওজ)র প্রধান প্রকৌশলী এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর: চিকিৎসক আহত, মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর: চিকিৎসক আহত, মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?

বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর: চিকিৎসক আহত, মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?
নিজস্ব প্রতিবেদক
মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?
মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা দ্রুত রূপ নেয় সহিংসতায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে একদল বহিরাগত হামলাকারী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে।

হামলায় একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত
মৃত ব্যক্তি মনির খান (৩৮)। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হকের ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর তাকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৯ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মনির খানের স্বজনরা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্য নন।

রোগীর চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াজ মিরন বলেন, “মনির খানের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালের ওপর হামলা বা ভাঙচুরে পরিবারের কেউ অংশ নেয়নি।”

হাসপাতালের অভিযোগ: ‘পরিকল্পিত হামলা’
কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেনের দাবি, রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে প্রবেশ করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরা ছিল, আবার কেউ প্রকাশ্যেই হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা আবাসিক চিকিৎসক ডা. শুভেন্দ্র হালদার শিপুর কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করে।

কাওসার হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

হামলাকারী কারা?
ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হামলাকারীরা কারা?

রোগীর পরিবারের সদস্যরা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, হামলাকারীরা রোগীর স্বজন নয়।

এই দুই পক্ষের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালানো ব্যক্তিরা কারা ছিলেন এবং তারা কীভাবে এত দ্রুত সংগঠিত হলো?

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “রোগীর মৃত্যু নিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে।”

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে মামলা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

যা বললেন কর্তব্যরত ডাক্তার শুভেন্দু
এ ব্যাপারে কেএমসি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.শুভেন্দু হালদার বলেন,মনির খান একজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন,আমরা যত্ন সহকারে সর্বোচ্চটা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।এখানে চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয়নি।যারা বলছে তারা অপপ্রচার করছে।এছাড়া তিনি বলেন,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অবহেলা বা অসহযোগীতা করেনি।যারা হামলা করেছে তারা রোগীর স্বজন নয়।

রয়ে গেছে নিরাপত্তা প্রশ্ন
পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা পরস্পরের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক বিরোধের অবসান হয়।

তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের প্রশ্ন।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে হামলা, চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করা স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুতর হুমকি।

আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালের সম্পদের ক্ষতি এবং চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ঘটনার প্রকৃত দায়ী কারা, হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল কি না এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে কী তথ্য পাওয়া যায়—এসব প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক বরিশাল পত্র
Theme Customized By Shakil IT Park