
নথুল্লাবাদ উড স্ট্যান্ডে মাইক্রোবাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: ‘এক ভাড়া’ বলে ডেকে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ, মূলহোতা শিপন!
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | ১৫ জুলাই, ২০২৬
বরিশালের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে বেড়েই চলেছে মাইক্রোবাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। আর এই সিন্ডিকেটের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। কম ভাড়ার লোভ দেখিয়ে গাড়িতে তুলে মাঝপথে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আজ নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এই চক্রের অন্যতম হোতা শিপন নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে প্রতারণা করতে দেখা গেছে।
যেভাবে চলছে প্রতারণা
সরেজমিনে দেখা যায়, নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডের কাউন্টারগুলোর সামনে ও আশেপাশে সিন্ডিকেটের কিছু দালাল ওঁত পেতে থাকে। দূরপাল্লার বা বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা স্ট্যান্ডে আসামাত্রই তারা কম ভাড়ায় ও দ্রুত পৌঁছানোর কথা বলে মাইক্রোবাসে ওঠার জন্য প্রলুব্ধ করে।
আকর্ষণীয় ভাড়ার টোপ: প্রথমে যাত্রীদের বলা হয় সাধারণ বাসের ভাড়ার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি টাকায় এসি মাইক্রোবাসে আরামদায়কভাবে যাওয়া যাবে।
জিম্মি দশা: গাড়ি ছাড়ার পর অথবা গন্তব্যে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে চালক ও দালালরা সুর পাল্টে ফেলে। তখন তারা আগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা দাবি করে বসে।
হুমকি ও হেনস্তা: কোনো যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিন্ডিকেটের সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে যাত্রীদের ব্যাগ আটকে রাখে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়।
সরেজমিনে শিপনের জালিয়াতি
আজ স্ট্যান্ডে সরেজমিনে অবস্থানকালে দেখা যায়, শিপন নামের ওই ব্যক্তি কয়েকজন যাত্রীকে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী মাইক্রোবাসে তোলার জন্য দরদাম করছেন। তিনি যাত্রীদের আশ্বস্ত করেন যে, ৬০০ টাকা ভাড়ায় তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু যাত্রীরা গাড়িতে উঠে বসার পরপরই শিপন ও তার সহযোগীরা ভাড়ার টিকিট কাটার অজুহাতে জনপ্রতি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা দাবি করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“শিপন নামের ওই লোকটা আমাদের ডেকে বলল ৬০০ টাকায় নিয়ে যাবে। এখন গাড়িতে ওঠার পর বলছে ৭০০ টাকা না দিলে নামতে দেবে না, মালামালও ছাড়বে না। আমরা পরিবার নিয়ে এসে এভাবে প্রকাশ্যে ডাকাতির শিকার হবো, এটা ভাবিনি।”
এই সমস্যার ভুক্তভোগী হন বরিশাল সময় পত্রিকার সংবাদ কর্মী পারভেজ হোসেন তিনি প্রতিবাদ করলে শিপন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তাদের সাথে অত্যন্ত অসভ্য আচরণ করে এবং গাড়ি থেকে নেমে যেতে বাধ্য করে, কিন্তু ততক্ষণে তাদের অন্য গাড়ি ধরার সময় পার হয়ে গেছে।
নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডের সাধারণ ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, এই মাইক্রোবাস সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এখানে সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শিপনসহ এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে যাত্রী-বান্ধব ও নিরাপদ করার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ।