
নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ
রিপোর্ট : বাংলাদেশের নেত্রকোণায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন৷ সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ৷
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে বসে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
নিহত সাংবাদিকের নাম লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির৷ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়৷
কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন৷ ‘ডিটেক্টিভ আর্টিকেল’–এ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন তিনি৷
গতকাল রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে বসে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া বলেন ‘‘সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত।এছাড়াও সরকারি দলের নেতা কর্মীদের দ্বারা হামলা মামলার শিকার হয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে গণমাধ্যমকর্মীরা। তাই প্রতিটি ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যারা অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের করে বিচারের দাবি জানান ৷
তিনি আরও বলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের ওপর গত বছরের ১০ নভেম্বরও দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে হামলা হয়েছিল৷ সেবার দৃর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল৷
বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ৷
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেছেন, ‘‘সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত। গণতান্ত্রিক উত্তরণ সত্ত্বেও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্ম স্থান তৈরি হয়নি এটাই সবচেয়ে হতাশার। তাই সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের যে দাবি দাওয়া বতর্মান সরকারের কাছে পেশ করেছেন তা মেনে নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা হউক।