1. admin@dainikbarishalpotro.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভান্ডারিয়ায় সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বরিশালে বাজেট বাস্তবায়নে নগরবাসিদের মতামত গ্রহণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি ত্যাগের রাজনীতিতে আস্থার নাম নুরুল আমিন সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী উত্তরায় গাড়ি চাপায় দুই সাংবাদিকের মৃত্যু নথুল্লাবাদ উড স্ট্যান্ডে মাইক্রোবাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: ‘এক ভাড়া’ বলে ডেকে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ, মূলহোতা শিপন! শত কোটি টাকার দুর্নীতির! বরপুত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অন্যতম মহা নায়ক বতর্মানে (সওজ)র প্রধান প্রকৌশলী এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

ঢাকার ভবিষ্যৎ পরিবহনব্যবস্থা: মনোরেল, মেট্রোরেল ও ঐতিহ্যবাহী রিকশার সমন্বিত মডেল

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৪০ বার পঠিত

ঢাকার ভবিষ্যৎ পরিবহনব্যবস্থা: মনোরেল, মেট্রোরেল ও ঐতিহ্যবাহী রিকশার সমন্বিত মডেল

মোঃ জহিরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। প্রতিদিন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন নাগরিক সেবার প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা তীব্র যানজট, সময় অপচয় এবং পরিবেশগত চাপের মুখোমুখি। এই বাস্তবতায় আধুনিক, দ্রুত ও টেকসই গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি। মেট্রোরেল ও মনোরেল সেই প্রয়োজন পূরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তবে উন্নয়নের এই ধারায় ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রিকশা সংস্কৃতিকে বাদ না দিয়ে, বরং একটি পরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করাই হবে দূরদর্শী পদক্ষেপ।

বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, আইডিইবি (IDEB) বরগুনা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-বরগুনার সদস্য প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ঢাকা মহানগরকে কয়েকটি পরিবহন জোনে বিভক্ত করে উত্তর–দক্ষিণ, পূর্ব–পশ্চিম এবং মিরপুর–পুরান ঢাকা করিডোরে মেট্রোরেল ও মনোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব করিডোর রাজধানীর প্রধান আবাসিক, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক এলাকাকে দ্রুত সংযুক্ত করবে। ফলে ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে।

তবে ঢাকার বাস্তবতা হলো, যাত্রার শেষ অংশ বা “লাস্ট মাইল” সংযোগের ক্ষেত্রে রিকশার বিকল্প এখনো সীমিত। নগরীর অসংখ্য সরু গলি, আবাসিক এলাকা, বাজার ও স্থানীয় সড়কে রিকশাই সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকর পরিবহন। তাই মনোরেল বা মেট্রোরেল চালুর পর রিকশাকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী পরিবহন হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এই পরিকল্পনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রিকশাকে “ফিডার সার্ভিস” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। অর্থাৎ যাত্রীরা মেট্রোরেল বা মনোরেল স্টেশন থেকে নেমে রিকশার মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবেন। এতে একদিকে যেমন নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হবে, অন্যদিকে রিকশাচালকদের কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বে রিকশা চলাচল কমে গিয়ে প্রধান সড়কে যানজটও হ্রাস পাবে।

রিকশা কেবল একটি পরিবহন মাধ্যম নয়; এটি ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন শহর যেমন তাদের ঐতিহ্যবাহী পরিবহনব্যবস্থাকে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় করেছে, তেমনি ঢাকাও রিকশাকে একটি পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় এনে নগর পরিবহনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। উন্নয়নের নামে রিকশাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে লাইসেন্সভিত্তিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা অধিকতর বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব সমাধান।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত মডেলে একটি আধুনিক জোনভিত্তিক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা শহরকে নির্দিষ্ট রিকশা জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা কালার-কোডেড লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। যেমন—উত্তর জোনে সবুজ, দক্ষিণ জোনে নীল, পূর্ব জোনে লাল এবং মধ্য জোনে হলুদ রঙের লাইসেন্স প্লেট ও রিকশা ডিজাইন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে রিকশার অপারেটিং এলাকা সহজেই শনাক্ত করা যাবে, অবৈধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

একই সঙ্গে চালকদের জন্য একটি মানসম্মত ড্রেস কোড চালু করা যেতে পারে, যা পেশাগত পরিচয়, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। নির্দিষ্ট রঙের ইউনিফর্ম, পরিচয় নম্বর ব্যাজ এবং QR-ভিত্তিক ডিজিটাল আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হলে যাত্রী নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং সেবার মান উন্নত হবে।

তিনি আরও বলেন, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সংযোজন হতে পারে AI-ভিত্তিক নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ (ANPR—Automatic Number Plate Recognition) ব্যবস্থা। প্রতিটি রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য ডিজিটাল নম্বরপ্লেট সংযুক্ত থাকবে, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, অবৈধ রিকশা চলাচল এবং নির্ধারিত জোন অতিক্রমের ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও গড়ে তোলা যাবে।

স্টেশনভিত্তিক রিকশা স্ট্যান্ড, ডিজিটাল নিবন্ধন, নির্ধারিত ভাড়ানীতি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে এই খাত আরও শৃঙ্খলিত ও কার্যকর হয়ে উঠবে। বিশ্বের উন্নত নগরীগুলোতে রেলভিত্তিক গণপরিবহন এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র পরিবহন পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। ঢাকা শহরেও সেই মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। মেট্রোরেল ও মনোরেল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রী পরিবহন করবে, আর রিকশা নিশ্চিত করবে প্রতিটি মহল্লা, আবাসিক এলাকা ও স্থানীয় সড়কের সঙ্গে সেই নেটওয়ার্কের কার্যকর সংযোগ।

একবিংশ শতাব্দীর ঢাকা কেবল আধুনিক অবকাঠামোর নগরী হবে না; এটি হবে ঐতিহ্য, প্রযুক্তি ও মানবিক নগর পরিকল্পনার সমন্বিত প্রতিচ্ছবি। মনোরেল, মেট্রোরেল, নিয়ন্ত্রিত রিকশা ব্যবস্থা, জোনভিত্তিক লাইসেন্সিং, ড্রেস কোড এবং AI-ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেমের সমন্বিত বাস্তবায়ন রাজধানীকে আরও স্মার্ট, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল নগরীতে রূপান্তর করতে পারে। পরিকল্পিত উন্নয়নই পারে ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে এবং একই সঙ্গে রক্ষা করতে পারে নগর ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক—রিকশাকে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক বরিশাল পত্র
Theme Customized By Shakil IT Park