
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
২১ আগস্ট ২০২৬:
শান্ত ইসলাম, বরিশাল ব্যুরো : দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর. গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন.
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন. প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন. তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট. সংসদের মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, এবং ৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন.
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে. ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন. গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়, যার পরিপ্রক্ষিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো.
নির্বাচনে জয়ের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, যা হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন। যেখানে শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন।” অন্যদিকে, পরাজয় স্বীকার করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন. এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন.
রাজনীতিতে আসার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন এবং সর্বশেষ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে সম্প্রতি তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাষ্ট্রপতি পদটিতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের রেওয়াজ চলে আসছিল. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ঐতিহাসিক বিজয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।