
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে এক নিয়োগে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য
(অনুসন্ধানী পর্ব-০১)
নিয়াজ মোহাম্মদ // পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ২০২৩ সালের অফিস সহায়ক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন, উত্তরপত্র জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চাচ্ছে ভুক্তভোগী ও ব্যাংকটির সাধারন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ব্যাংককর্মী এবং কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর তথ্য, উপাত্ত।
২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক নিয়োগেই এতবড় ঘুষকান্ডের কেলেঙ্কারি ঘটে যা দীর্ঘ অনুসন্ধানে তথ্য উপাত্ত সহ উঠে আসে। তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, অফিস সহায়ক পদে ৪৯২ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে, যারা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তখন। ঘুষ দিয়ে চাকরী পাওয়া প্রার্থী শ্যামলীর স্বামী শরিফুলের অভিযোগ একজন নারী অফিসার এ ঘুষকান্ডের মূল সদস্যদের একজন। তিনি একাই কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন এবং তৎকালীন এমডি জামিনুর রহমান, সিস্টেম এনালিস্ট ইয়াহিয়া তানহারের কাছে সেই ঘুষের টাকা জমা দিয়েছেন চাকরী জালিয়াতির জন্য। এ ঘটনায় নিজের স্ত্রীর চাকরী ঘুষের বিনিময়ে পাওয়ার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।
চাকরী প্রার্থীদের দাবি,তাদেন কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। সেই হিসাবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে ; দাবী ঘুষের টাকা সংগ্রহ করা কর্মকর্তাদের। এরমধ্যে, ব্যাংকের কর্মচারী শরিফুলের স্ত্রী শ্যামলী যার রোল নং ছিল ২৪৩৪৭১ তার সাথে ঘুষ লেনদেনকারীদের চুক্তি ছিল দশ লক্ষ টাকার। এছাড়া বরগুনার ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে সোহাগ হাওলাদার যার রোল ২১৮৮০৫, তারসাথে চুক্তি করে একই অফিসার দশ লক্ষ টাকা ; তিনি এখন বরগুনা অফিসে কর্মরত, প্রার্থী আরজুর চুক্তিও ছিল দশ লক্ষ টাকা। এ সংক্রান্ত একাধিক স্বীকারোক্তি, ফোন রেকর্ড রয়েছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ টিমের তদন্তের এক অংশে দেখা যায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এনামুল হক এর একটি হিসাবে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের এক পর্যায়ে এনামুল স্বীকার করেছেন এ টাকা নিয়োগের সেই ষুষের টাকা, যার কপি হাতে এসেছে প্রতিবেদকের।
নিয়োগ–সংক্রান্ত এই অভিযোগ ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং অভিযুক্তরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
তদন্ত চলমান থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত টিমের বক্তব্য সংগ্রহ সম্ভব না হলেও চেষ্টা চলমান রয়েছে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে।