শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের ন্যাক্কারজনক বিদায়, সিন্ডিকেট নির্মূলের দাবি
প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন
শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের ন্যাক্কারজনক বিদায়, সিন্ডিকেট নির্মূলের দাবি
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাকে অপসারন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই আদেশে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর আহমেদ তারিকুল ওমরকে বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বদলির আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ।
তারা বিআরটিসির প্রধান ফটক ও পকেট গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যেই চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার বিদায় ঘিরে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আব্দুল লতিফ মোল্লা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। ডিপো ও কর্মকর্তাদের বদলি, দপ্তর সাজসজ্জা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবং শ্রমিক ও কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তারা। পাশাপাশি বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
বিআরটিসি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের দপ্তর সাজসজ্জার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও ৫৫ লাখ টাকার ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়ও প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ দেখিয়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মহিউদ্দিন খানের অভিযোগ, বিভিন্ন ডিপোতে বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও কারিগরসহ শ্রমিকদের বেতন এবং বিভিন্ন ডিপোর বকেয়া পরিশোধ না করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও তাদের দাবি।
তিনি আরও বলেন, আগের সময়ে মাসের প্রথম থেকে পঞ্চম তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতন দেওয়া হলেও বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়ে বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিক ও কর্মচারীর বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভের সময় কার্যালয়ের ভেতরে প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েছিলেন।
তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞা।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা মূলত চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করেই বিক্ষোভ করছেন। বিআরটিসিতে চেয়ারম্যান বদলি হলে শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন পক্ষের বিক্ষোভের ঘটনা চিরাচরিত। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। অফিস শেষে যাদের বের হওয়ার প্রয়োজন, তারা বের হয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আব্দুল মুহাইমিম সজীব জানান, চেয়ারম্যান ফাইল সংক্রান্ত কাজ করছেন। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ায় পেন্ডিং কাজ গুলো গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সমন্বয় সভাও রোববার নির্ধারিত রয়েছে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা বিআরটিসিরই লোক, বাইরের কেউ নন। পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
বিআরটিসির চেয়ারম্যানের বদলিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন খাতে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সিন্ডিকেট নির্মূলের দাবিঃ বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার রেখে যাওয়া সিন্ডিকেট নির্মুলের দাবী জানান আন্দোলনকারীরা।